img

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজাকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনব্যবস্থাকে (ইসরাইল) ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের জবাবে সশস্ত্র বাহিনী কঠোর প্রতিশোধ নেবে।’

আগামী ৪ জুলাই তেহরানে খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষ হবে। এ সময়ের মধ্যে কোম ও ইরাকেও বিভিন্ন শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

এর আগে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেন। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘মৃত্যুর জন্য চিহ্নিত’ বলে মন্তব্য করার পর তিনি বলেন, ইরানের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

জানাজার সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান, মাশহাদসহ কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা

ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপের জবাব দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স বলেছে, সব তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে। এই নির্দেশনা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘হরমুজ প্রণালি আগ্রাসী আমেরিকার খেলার মাঠ নয়; এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্বের আওতাধীন এলাকা।’

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘লাল রেখা’।

‘খামেনির শাহাদাত পথচলার সমাপ্তি নয়’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘আমাদের নেতার শাহাদাত পথচলার সমাপ্তি নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা।’

খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরুর আগে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই দিনব্যাপী পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

আলোচনায় অংশ নেওয়া সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি এই দফার আলোচনায় ওঠেনি।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুন মাসে যুদ্ধবিরতির জন্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। খামেনির দাফনের পর দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে এবং দুই পক্ষের বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে।

তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এবারের বৈঠকে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, এই বিষয়টি পরবর্তী দফার আলোচনায় তোলা হবে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। আলোচনার শেষে কোনো পক্ষই মতপার্থক্য দূর করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর